দাঁত ভেঙে গেলে কী করবেন?

দাঁত শরীরের অন্যতম শক্ত ও মজবুত অঙ্গ। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা ভেঙে যেতে পারে। এতে অসহনীয় ব্যথার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এই ভাঙা দাঁতের স্থায়ীত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

দাঁত ভাঙার কারণ
– সড়ক দুর্ঘটনা, অন্য কোনো দুর্ঘটনায় খেলাধুলায় আঘাত বা পড়ে গিয়ে দাঁত ভেঙে যেতে পারে।

– টিউবওয়েল দুর্ঘটনাও অনেক সময় দাঁত ভাঙার কারণ হয়।

– হাড় জাতীয় খাবার, শক্ত ক্যান্ডি বা অন্যান্য শক্ত খাবার খেতে গিয়ে দাঁত ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়া খাবারের সময় ছোট দানা, বিচি যেমন—শুকনা মরিচের বিচি, পেয়ারার বিচি কামড়েও দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।

– দাঁতের ক্ষয়রোধ বা ডেন্টাল ক্যারিজের কারণেও অনেক সময় অল্পতেই দাঁত ভেঙে যেতে পারে।

– অনেক সময় দাঁত এমনভাবে ভেঙে যায় যে তা বাহির থেকে বোঝা যায় না। দাঁতের ক্ষয় না থাকলে কামড় দিয়ে ব্যথা হলে বা ঠাণ্ডা বা গরম অনুভূত হলে বুঝতে হবে দাঁত ভেঙে গেছে বা ফাটল ধরেছে।

– দাঁতের একেবারে ওপরের অংশ থেকে মাড়ি পর্যন্ত এই ফাটল দেখা যেতে পারে বা ভেঙে যেতে পারে। এভাবে ভেঙে গেলে দাঁত সাধারণত শিরশির করে থাকে। আর সেই সঙ্গে দাঁতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

– মাড়ির নিচের দাঁত ভেঙে গেলে বা মাড়ির নিচের ফাটল ধরলে দাঁতের ওই ভাঙা অংশ তুলে ফেলতে হবে।

– দাঁত অনেক সময় ওপর থেকে মাড়ির নিচ পর্যন্ত ভেঙে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দাঁতটি না ফেলে দাঁতের একটি অংশ রেখে দেওয়া যেতে পারে।

দাঁত ভাঙার চিকিৎসা
– দাঁতের ভাঙা অংশ ঠিক করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো ক্যাপ করা। ধাতু, সিরামিক ও পোরসেলিন দিয়ে তৈরি করা ক্যাপ দাঁত আগের মতোই চেহারা-আকৃতি-রং ফিরে পায়।

– আংশিক ভাঙা সামনের দাঁতে ভেনিয়ার বা কম্পোজিট ফিলিং ব্যবহার একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।

– ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট একটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে যদি ভাঙা দাঁত রক্ষা করা না যায়।

– দাঁত ভাঙার ফলে মজ্জা টিস্যুতে সংক্রমণ ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য রুট ক্যানেল করলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়।

– ভাঙা দাঁতে ব্যথা না থাকলে ফিলিং করাই সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ পদ্ধতি।দাঁত ভেঙে গেলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত

সবচেয়ে বড় কথা

দাঁত ভেঙে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অন্যথায় এই ভাঙা অংশ থেকে জিহ্বা বা ঠোঁট ফেটে যেতে পারে। ভাঙা দাঁত দিয়ে চিবানো বা কামড়ানো এড়িয়ে চলতে হবে।

Leave a Comment