ডে ব্রুইনের গোল বাতিল হওয়া উচিত ছিল, দাবি রিয়াল মাদ্রিদ কোচের

দুই দলের দুর্দান্ত দুটি গোল আর তুমুল উত্তেজনাময় ম্যাচ শেষে এখন চলছে বিশ্লেষণ আর কাটাছেঁড়া। মেলানো হচ্ছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খতিয়ান। কার্লো আনচেলত্তির মতে, জয় তাদের প্রাপ্য ছিল। তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন রেফারি আর্তুর সোয়ারিস দিয়াসকে। ম্যানচেস্টার সিটির সমতায় ফেরা গোলটি বৈধ নয় বলেই মনে করেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ। তার ধারণা, পর্তুগিজ রেফারি যথেষ্ট মনোযাগী ছিল না।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মহারণ শেষ হয় ১-১ ড্রয়ে। প্রথমার্ধে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার খ্যাপাটে দৌড় থেকে বল পেয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের বুলেট গতির শট এগিয়ে দেয় রিয়ালকে। দ্বিতীয়ার্ধে কেভিন ডে ব্রুইনের চোখধাঁধানো এক গোলা আশ্রয় নেয় রিয়ালের জালে।

এই গোল নিয়েই আপত্তি আনচেলত্তির। ম্যাচ শেষে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণেও প্রশ্ন ওঠে গোলটি নিয়ে। বাইন স্পোর্টসের থ্রি ডি প্রযুক্তিতে দেখা গেছে, গোলের বিল্ড-আপে সামান্য বাইরে থেকে বলটি ভেতরে এনেছিলেন সিটির বের্নার্দো সিলভা। আর্সেনালের কিংবদন্তি কোচ ও বর্তমানে ফিফার চিফ অফ গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট আর্সেন ভেঙ্গারের মতে, ভিএআর হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন ছিল এখানে।

টিভি ফুটেজ দেখেই তা বুঝতে পেরেছিলেন বলে দাবি করলেন আনচেলত্তি। এমনিতে ডাগআউটের সামনে বেশির ভাগ সময় শান্ত ও ধীরস্থির থাকলেও এই ম্যাচের এক পর্যায়ে রেফারির সঙ্গে কিছু একটা নিয়ে তর্ক করতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ। ম্যাচ শেষে মুভিস্টার প্লাসের সঙ্গে আলাপচারিতায় গোলটি নিয়ে আপত্তি তোলেন তিনি। পরে একই কথা বলেন সংবাদ সম্মেলনেও।

“দেখে মনে হয়েছে, বল বাইরে চলে গিয়েছিল। বাইন স্পোর্টসের প্রযুক্তিতে দেখা গেছে যে, বল পরিষ্কার বাইরে ছিল। খুবই অদ্ভুত ব্যাপার যে তিনি (রেফারি) এটি দেখেননি। এটির আগে একটি কর্নারও হয়েছিল, যা দেননি রেফারি। তিনি খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। আমাকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি। আমি তো খেলছিলাম না! তখন তাকে বলেছি, ‘আমাকে না দেখিয়ে মাঠের ভেতরে এটার প্রয়োগ করুন।”

“বলটি অবশ্যই আউট ছিল। এটা স্রেফ আমি বলছি না, প্রযুক্তিই বলছে। এটি আমাকে বিস্মিত করেছে। এই ধরনের ছোট ছোট ব্যাপারগুলি বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। রেফারি মনোযোগসহকারে দায়িত্ব পালন করেননি। মাঠের বাইরে আমাকে নয়, মাঠের ভেতরে ফুটবলারদের আরও বেশি কার্ড দেখানো প্রয়োজন ছিল।”

শুধু ওই গোলের বিতর্ক নিয়েই নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও জয়টা রিয়াল মাদ্রিদের প্রাপ্য ছিল বলে মনে করেন আনচেলত্তি। যদিও শুরুর দিকে ম্যানচেস্টার সিটি প্রচণ্ড চাপে রেখেছিল রিয়ালের রক্ষণকে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলেই মনে করেন রিয়াল কোচ।

“প্রথম আধঘণ্টায় বল ওদের দখলে ছিল বেশি, অনেক চাপ তৈরি করেছে ওরা। তবে আমরা দুর্ভাবনায় পড়িনি, কারণ রক্ষণে আমাদের পজিশন খুব ভালো ছিল এবং কার্যকরভাবে বল সামলাতে পেরেছি। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালোভাবে সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছি। আমাদের জেতা উচিত ছিল, তবে ভালো অনুভব করছি আমরা।”

“আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছি, লড়াই করেছি এবং জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল। তবে ম্যাচটি ভালো ছিল এবং ভালো অনুভূতি নিয়েই আমরা দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে যাব। মাঠে আমরা যা করেছি, সেটির প্রতিফলন ফলাফলে পড়ছে না, তবে শেষ মিনিট পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে (দ্বিতীয় লেগে)।”

ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে দ্বিতীয় লেগের লড়াই হবে আগামী বুধবার।

Leave a Comment