মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে অপহ’রণ চেষ্টা: র‍্যাব সদস্যসহ ৩ জন গ্রেফতার !

ঢাকার মহাখালী ফ্লাইওভারে মধ্যরাতে গাড়ি থামিয়ে ছি’নতাই চেষ্টার অভিযোগে র‍্যাব সদস্যসহ তিনজনকে গ্রে’ফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আরিয়ান আহমেদ জয় (২৩), র‍্যাব সদস্য আল মোমেন (২৬) ও গাড়িচালক ফরহাদ হোসেন (২২)।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে দুই ব্যক্তিকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নম্বর ২১। মামলার বাদী শহীদুল ইসলাম এ ঘটনার একজন ভুক্তভোগী।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আল মোমেন নিজেকে র‍্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাকে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া বাকি দু’জনের মধ্যে একজন ভুক্তভোগীদের গাড়িচালক। জয় নামের অপর ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে জনতা হাতেনাতে আটক করে।

বাদী শহীদুল ইসলাম মামলার এজহারে অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে আমার বন্ধু তারিকের (৩০) সঙ্গে দেখা করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমার ভাগ্নে মো. রিয়াজকে নিয়ে যাই। বন্ধু তারিকের সঙ্গে দেখা করে সেখান থেকে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে আবার প্রাইভেটকারে করে মানিকগঞ্জে আমার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। যাত্রা শুরুর পর রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে মহাখালী ফ্লাইওভারে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকার আমাদের প্রাইভেটকারকে ব্যারিকেড দিয়ে গতিরোধ করে। ওই প্রাইভেটকার থেকে তিন ব্যক্তি নেমে আমাদের প্রাইভেটকারের কাছে এসে পি’স্তলের ভ’য় দেখিয়ে সঙ্গে থাকা মালামাল লু’টের চেষ্টা করে।

তখন আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দু’ষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আরিয়ান আহমেদ জয় (২৩) নামের একজনকে আটক করে জনতা। অপর দু’ষ্কৃতিকারীরা প্রাইভেটকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া দুইটায় রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর ঘটে এই অপহ’রণ চেষ্টার ঘটনা। ওই পথ দিয়ে যাওয়া যমুনা টেলিভিশনের গাড়ি দেখেই থামার আহ্বান জানায় জটলা করে থাকা কিছু সংখ্যক মানুষ। সেখানেই দেখা মেলে হ্যা’ন্ডকাফ পরিহিত দুই ব্যক্তির। একজনের নাম শহীদুল ইসলাম, অপরজনের রিয়াজ। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে। তাদের অভিযোগ, বিমানবন্দর এলাকা থেকে গাড়ি ভাড়া করে যাচ্ছিলেন তারা। ফ্লাইওভারে উঠতেই তাদের গাড়ির গতিরোধ করে পেছন থেকে আসা আরেকটি গাড়ি। আরোহী ব্যক্তিরা র‍্যাব পরিচয়ে অ’স্ত্র দেখিয়ে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল তাদের। এক পর্যায়ে হ্যা’ন্ডকাফ পরিয়ে করে মারধর। সন্দেহ হওয়ায় চিৎকার শুরু করেন ভুক্তভোগীরা।

ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার সাথে জড়িত শহীদুল ইসলাম জানান, ওরা আমাদের গাড়ি থামিয়ে জানালা দিয়ে পি’স্তল ধরে। গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বলে আমরা সোনা চোরাচালানকারী। আমরা বলি আমাদের চেক করে দেখেন। তখন আমাদের মা’রধর শুরু করে। বলে, গু’লি করে মেরে ফেলবো। তারপর হাতে হ্যা’ন্ডকাফ পরিয়ে দেয়। এ সময় আমরা চিৎকার শুরু করি।

তাদের চিৎকার শুনে গাড়ি থামান এক ব্যক্তি। তিনি জানালেন, আমি দেখলাম র‍্যাব লেখা কোট পরে ৩-৪ জন এই দুই ব্যক্তির সাথে টানাহেঁচড়া করছে। তাদের কোমরে অ’স্ত্র। আমি এগিয়ে গেলে তারা সরে যেতে বলে। তখন আমি ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানাই।

এ সময় গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনের ডিউটি শেষে সে পথেই মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন পুলিশ কনস্টেবল মো. সাকিব মোল্লা। ভুক্তভোগীদের আকুতি শুনে তিনিও এগিয়ে আসেন সহায়তায়।

সাকিব মোল্লা যমুনা নিউজকে জানান, আমি এগিয়ে গেলে র‍্যাবের কোট পরিহিত ব্যক্তিরা আইডি কার্ড দেখায়। আইডি কার্ডের মেয়াদ ছিল না। তখন আমার সন্দেহ হয়। পরে আমাকেও তারা গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে চায়। এক পর্যায়ে অ’স্ত্রধারী ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। সে সময় আমরা তাদের সাথে থাকা একজনকে ধরে ফেলি।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তোভোগীদের ভাড়া করা গাড়ির চালককে নিয়ে যায়। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় চক্রের এক সদস্যকে জনতা ধরে ফেলে।

আ’টককৃত ব্যক্তি জানান, তার নাম জয়। বাড়ি দিনাজপুর। তিনি টঙ্গীতে একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন। তার দাবি, মোমেন নামের এক র‍্যাব সদস্যের সাথে মা’দক সংক্রান্ত কিছু কাজে করতে গিয়ে তার পরিচয় হয়। পরে মোমেন তাকে দিয়ে আরও কিছু কাজ করায়। ঘটনার দিন একটি অপারেশনের কথা বলে মহাখালী ফ্লাইওভারে নিয়ে আসেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি অ’স্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বনানী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। তাদের চাবিতে হ্যা’ন্ডকাফ থেকে মুক্তি মেলে ভুক্তভোগীদের। সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।

রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া জনসাধারণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *