স্বর্গ থেকেও দেখা যাবে মেসির মুখ!

ট্যাটু থেকে ম্যুরাল- বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর্জেন্টিনায় চলছে লিওনেল মেসিকে অমর করে রাখার যজ্ঞ। এবার হয়তো স্বর্গ থেকেই খুঁজে নেয়া যাবে এই ফুটবল জাদুকরের মুখ! আর্জেন্টিনার কর্ডোবা প্রদেশের লস কন্দোরেসের প্রায় ১২৪ একর আয়তনের ভুট্টার মাঠে বিশেষভাবে নির্মিত এক বিশেষ শিল্পকর্ম সৃষ্টি করা হয়েছে বীজ বপনের মাধ্যমে। আর এই বীজ বপনও করা হয়েছে বিশেষ অ্যালগরিদম মেনে। হিসেব করা হয়েছে, কোথায় কোথায় বীজ বপন করলে সেগুলো থেকে বেড়ে ওঠা চারা সৃষ্টি করবে শ্মশ্রুমণ্ডিত আর্জেন্টাইন মহানায়কের বিশাল এক প্রতিকৃতি। খবর সিএনএনের।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ যিনি সম্পন্ন করেছেন তিনি ম্যাক্সিমিলিয়ানো স্পিনাজ্জে। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে বিশ্বকাপ অর্জনের ৩৬ বছর পর লিওনেল মেসির কীর্তিকে অমর করে রাখতে এই কৃষক বিশেষভাবে চারা রোপণ করেছেন। ম্যাক্সিমিলিয়ানো বলেন, আমার কাছে, মেসি অজেয়। আমরা এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আর এই আনন্দ উদযাপন করতে আমি বেছে নিয়েছি চারা রোপণকে।

ফুটবল উন্মাদনার জনপদ হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কৃষি উৎপাদনকারী দেশ। বর্তমানে ভুট্টা রফতানিতেও আর্জেন্টিনা বিশ্বে তৃতীয়। কৃষিই দেশটির রফতানি বাণিজ্যের প্রধান চালিকা শক্তি। তবে বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনাকে খ্যাতি এনে দিয়েছে ফুটবল।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বীজ কোথায় কতটা ঘনত্বে কীভাবে, কত দূরত্বে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বপন করলে শেষে সুনির্দিষ্ট ছবিটি পাওয়া যাবে, মেশিনের সেই কোডিং ডিজাইন তৈরি করেছেন কৃষি প্রকৌশলী কার্লোস ফারিসেলি। তিনি বলেন, বীজ বপনের মাধ্যমে মেসির প্রতিকৃতি তৈরি করে ‘ট্রিবিউট’ দেয়ার কোডের ধারণা আমার ছিল। ফারসেলি জানান, এই কোড তিনি উন্মুক্ত করে দেবেন সেই সব কৃষকের জন্য, এমনটি করার ‘সাহস’ যাদের আছে।

জিওকোডিং ব্যবহার করে মেশিনকে নির্দেশনা দেয়া যায় যে, প্রতি বর্গমিটারের কোন কোন জায়গায় কী পরিমাণ বীজ বপন করলে মেসির মুখাবয়বের বিভিন্ন স্থানের বৈপরীত্য সম্বলিত সম্পূর্ণ প্রতিকৃতি পাওয়া যাবে। এমনটি জানিয়ে ফারিসেলি বলেন, ভুট্টা যখন বড় হবে তখন উপর থেকে নেয়া শটে চারার সন্নিবেশকে অনেকটাই ঘন মনে হয়। সেই সাথে, আড়ালে চলে যায় মাঠের বড় একটা অংশ। ঘন ও পাতলা ঘনত্বের চারায় তখন তৈরি হবে এই কৃষিশিল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *