পেয়ারা বাগান করে লাখপতি পারভেজ!

পরিবারের কথা চিন্তা করে ব্যবসা ছেড়ে জমি লিজ নিয়ে পেয়ারার বাগান করেন। আর এই পেয়ারার বাগান করেই ভাগ্যের পরিবর্তন হয় পারভেজের। বর্তমানে তিনি পেয়ারার বাগান করে লাখপতি হয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে পরিবারের হাল ধরতে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা কিছুদিন ভালো চললেও ক’রোনা মহা’মারির কারণে লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

পারভেজ খান ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের ১২নং ওয়ার্ডের ছিট চিলারং গ্রামের বাসিন্দা। উচ্চ মাধ্যমিকের পরে আর পড়াশোনা করতে পারেননি। পরিবারের হাল ধরতে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। করোনার কারণে সেই ব্যবসায় লোকসান হওয়ার পর জমি লিজ নিয়ে পেয়ারার বাগান করে পরিবারের পাশে দাঁড়ান। বর্তমানে পেয়ারার পাশাপাশি কূল, পেঁপে, আপেল, মাল্টা, ডালিম ও সবেদাসহ অনেক ফলের বাগান দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি। সৃষ্টি করেছেন কর্মসংস্থান। তার সফলতা দেখে আশেপাশের অনেক বেকার যুবকরা বাগান করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাগান থেকে কয়েক দফায় ফল বিক্রি করে লাখ টাকা আয় করেছেন।

পারভেজ খান বলেন, প্রথমে বাবার সাথে ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা শুরু করেছিলাম। করোনার কারণে লোকসান হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেই। তারপর বিভিন্ন জায়গার বাগান পরিদর্শন করে বাগান করার চিন্তা করি। তারপর পেয়ারার বাগান গড়ে তুলি। আল্লাহর অশেষ রহমতে পেয়ারার ভালো ফলন হয়। পেয়ারার সাথে সাথি ফসল হিসেবে বরই চাষ করেছিলাম। সেটা থেকেও বাড়তি আয় করতে পেরেছি। বর্তমানে আমার বাগানে ৭ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। বাগান দেওয়ার ফলে তাদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। দাম কম থাকলেও আশা করছি ১৫-১৬ লাখ টাকা আয় করতে পারবো। আশা করছি আগামীতে বাগানের পরিধি আরো বড় করবো। বাগান থেকে পেয়ারা ও বরই বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়েছে।

পেয়ারা কিনতে আসা রিফাত আহমেদ বলেন, পারভেজের বাগানের খবর পেয়ে নিজেই চলে এসেছি পেয়ারা কিনতে। বাগানে এসে নিজের হাতে পেরে নিয়েছি। তরতাজা ফরমালিন মুক্ত পেয়ারা কিনতে পেরে আমি খুশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল আজিজ বলেন, পারভেজের বাগানের খবর আমরা পেয়েছি। শুনেছি তার বাগানে ফলের ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি তাকে দেখে আরো উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। বাগানের প্রয়োজনে আমরা সব সময় তাকে সহযোগিতা করে যাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *