সিলেটে এক শিক্ষকের স্কুল: পরিচ্ছন্নতা থেকে দাফতরিক কাজ একাই সামলান তিনি

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের গ্রাম মনুরপাড় আর ললিকান্দি। এ জনপদে যেতে বর্ষায় নৌ-পথ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে হাঁটতে হয় ৫ কিলোমিটার। প্রত্যন্ত এ অঞ্চলের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দু’বছর ধরে চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দ্বারা।

জানা গেছে, স্কুলের একমাত্র ওই শিক্ষক রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে। করেন দফতরির কাজ; প্রয়োজনে হতে হয় ঝাড়ুদারও। শুধু তাই নয়, সরকারি কাজ আর ব্যক্তিগত ছুটি মিলিয়ে মাসের অর্ধেক দিনই বন্ধ রাখতে হয় স্কুল। এতে পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বাড়ছে ঝরে পড়ার হার।

বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয় ২০২০ সালে। শুরুতে ২ জন শিক্ষক পদায়ন হলেও যাতায়াত অসুবিধার কারণে একজন তদবির করে আর যোগদান করেননি। তারপর থেকে একজন শিক্ষকই সামলাচ্ছেন স্কুলটি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুধু শিক্ষক পদায়ন করলেই হবে না, ঠেকাতে হবে তদবির করে বদলি বাণিজ্য।

স্কুলটির একমাত্র শিক্ষক মো. খসরুজ্জামান বলেন, সকালে এসে প্রথমে আমাকে দরজা-জানালা খুলতে হয়, পতাকা টাঙাতে হয়, ফ্লোর ঝাড়ু দিতে হয়। পরে অফিসিয়াল কাজ করতে হয়। অফিসিয়াল বিভিন্ন মিটিং থাকে সেগুলোতে যেতে হয়। যখন মিটিংয়ে যাই, তখন স্কুল ফাঁকা থাকে। ওই দিনগুলোতে ছাত্রছাত্রীরা এসে ফিরে যায়।

এদিকে এ বিষয়ে ৩ দিন চেষ্টা করলেও কথা বলতে রাজি হননি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। পরে উপপরিচালক জালাল উদ্দিনকে পাওয়া গেলে অনুমতির অজুহাতে তিনিও কথা বলতে রাজি হননি। তবে, দ্রুত শিক্ষক পদায়নের জন্য টেলিফোনে নির্দেশনা দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *