ইভিএম’র চেয়ে খাদ্য-চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী!

আর্থিক সংকট সব দেশেই আছে। তবে, সে কারণে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প বাতিল করা হয়নি। এই সময়ে ইভিএম’র চেয়ে সরকার খাদ্য-চিকিৎসার মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) তিনদিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গুজব প্রতিরোধ, পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিংসহ জেলা প্রশাসকদের মোট ২৫ দফা নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথা অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রস্তাব, আলোচনা আর সমন্বয় করতে অনুষ্ঠিত হয় জেলা প্রশাসক সম্মেলন। এবারও ডিসিদের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী এ আয়োজন। উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী, ডিসিদের বিভিন্ন ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, শুধু চাকরির জন্য নয়, জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। আন্তরিকতা ও দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ ছাড়া কখনও সফল হওয়া যায় না। বিশেষ করে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কোভিডের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আপনারা প্রমাণ করেছেন, মানুষের জন্যই মানুষ।

গুজব প্রতিরোধ, পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিংসহ জেলা প্রশাসকদের মোট ২৫ দফা নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। কোথাও যেন পতিত জমি না থাকে। অনাবাদী জমিতে আবাদ করতে হবে। দেশের সকল অনাবাদী জমিকে যদি কাজে লাগানো যায় তবে খাদ্য উৎপাদন এবং বহুমুখীকরণে কোনো সমস্যা হবে না। সেই সাথে, নিজেরাই নিজেদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। সাধারণ মানুষকেও এই ব্যাপারে উদবুদ্ধ করতে হবে।

আপাতত নতুন করে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনে কথা বলেন সে প্রসঙ্গেও। তিনি বলেন, বিরোধী দলের একজন বলেছেন, ইভিএম কিনতে ৮ হাজার কোটি ঠাকা লাগবে। তাই পরিকল্পনা কমিশন থেকে ইভিএম কেনা বাদ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের আর্থিক সংকট। তবে সত্যি কথা হলো, আর্থিক সংকট সারা বিশ্বেই আছে। আমাদের দেশেও আছে। তবে তা এমন পর্যায়ে যায়নি যে, আমরা চলতে পারবো না। এই মুহূর্তে আমাদের সামনে অগ্রাধিকার হচ্ছে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মোট ২৬টি অধিবেশন থাকবে। এর মধ্যে ২০টি অধিবেশন হবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। এ জন্য জেলা প্রশাসকরা মোট ২৪৫টি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। সম্মেলন শেষ হবে ২৬ জানুয়ারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *