ইকরামের বাগান থেকে ২৫ লাখ টাকার কমলা বিক্রির সম্ভাবনা!

প্রায় ১১ বছর যাবত কমলা চাষ করছেন তিনি। বর্তমানে তার বাগান দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভীড় করছেন। আশা করছেন চলতি বছর ২৫ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন। ঠাকুরগাঁওয়ের আবু জাহিদ মো. ইবনুল ইকরাম জুয়েল দার্জিলিং জাতের কমলা চাষে তাক লাগিয়েছেন।

মো. ইবনুল ইকরাম জুয়েল ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বিরহলী গ্রামের বাসিন্দা। গত ১১ বছর আগে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে ৩ বিঘা জমির উপরে করেছেন ভারতীয় দার্জিলিং জাতের কমলার বাগান। বাগানের নাম দিয়েছেন ‘অরেঞ্জ ভ্যালি’। বাগানে প্রায় ২৫০ টি গাছ রয়েছে। এবছর অষ্টমবারের মতো বাগান থেকে কমলা সংগ্রহ করে বিক্রি করবেন। এবছর ২৫ লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রির আশা করছেন। গত বছর ১৫ লক্ষ টাকার কমলা বিক্রি করেছিলেন।

বাগানের গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে বড় বড় কমলা। কমলার ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। তার এই অপরূপ সুন্দর বাগানটি দেখতে স্থানীয়দের মতো প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ আসছেন। উদ্যোক্তা আবু জাহিদ মো. ইবনুল ইকরাম জুয়েল বলেন, আমি ১১ বছর আগে জেলা হর্টিকালচার থেকে প্রতিটি চারা ৫ টাকা করে ৩০০ চারা কিনেছিলাম। চারা গুলো ৩ বিঘা জমিতে রোপন করি। তারপর আরো ২ বিঘায় কমলার চারা রোপন করি। ২ বিঘা জমিতে মাল্টার চাষ করি। চারা রোপনে জমি তৈরী করতে ও অন্যান্য সব খরচ মিলে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি অর্গানিক পদ্ধতিতে কমলার চাষ করি। কোনো প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করি না। বাগান থেকেই ৩০০ টাকা কেজি দরে কমলা বিক্রি করতে পারি। গত মৌসুমে আড়াইশ গাছে ৩শ মণ কমলা ১৫ লাখ টাকায় বিক্রয় করেছি। এবার ২৫ লক্ষাধিক টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবো। কেউ এমন বাগান করতে চাইলে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করব। বাগানের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আমার বাগানটি দেখাশোনার জন্য ২৫ জন লোক রয়েছে।

বাগান দেখতে এসে দুর্নীতি দমন কমিশনের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আব্দুল করিম বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে এই বাগানটির বিষয়ে জানতে পারি। তারপর অনেকের মুখের এই বাগানের অনকে সুনাম শুনেছি। আর এই কমলা খেতে খুবই সুস্বাদু। তার দেখাদেখি অনেকেই এমন বাগান করতে পরামর্শ নিচ্ছেন। তাই বাগানটি দেখতে এসেছি। বাগানটি খুব সুন্দর।

জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের মাটিতে আগে তেমন ভাবে কমলার চাষ হতো না। তবে এখন বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশেই কমলার চাষ হচ্ছে। জুয়েলের বাগানটি দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভীড় করে। অন্যরাও তার কাছ থেকে বাগান করার পরামর্শ নিচ্ছেন। তার বাগানটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *