‘মাকে যেন কিছু বলো না, বাবা’, মৃ’ত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর ইরানের কারাতে চ্যাম্পিয়নের আকুতি

বাবা, মাকে যেন কিছু বলো না’ মৃ’ত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়ার পর সন্তানের শেষ আকুতি ছিল তার বাবার প্রতি। ২২ বছর বয়সী ইরানের মোহাম্মদ মেহেদী কারামি এই অনুরোধ করেন তার বাবার কাছে। খবর বিবিসি’র।

ইরানে হিজাব ইস্যুতে ২২ বছর বয়সী কারাতে চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ মেহেদী কারামিকে গ্রে’ফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের মাত্র ৬৫ দিন পরেই গত ৭ জানুয়ারি তাকে ফাঁ’সি দেয়া হয়। কোর্টে নিজেকে নি’র্দোষ প্রমাণের জন্য মাত্র ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয় বলে জানা যায়।

মেহেদীর ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে কীভাবে ইরান আন্দোলনকারীদেরকে থামানোর জন্য কঠোর হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাইশা আমিনির মৃ’ত্যুর পর পুরো ইরান জুড়ে বি’ক্ষোভের অ’গ্নিশিখা ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিক্ষোভ থামাতে ইরান প্রশাসন কঠোর হয়। শক্ত হাতে দমন করতে থাকে বিক্ষোভকারীদের। নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে কমপক্ষে ৪৮১ জন বি’ক্ষোভকারী মারা যান এই আন্দোলনে।

পশ্চিম তেহরানে আন্দোলনের সময় ৩ নভেম্বর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তার বিরুদ্ধে একজন সংসদ সদস্যকে হ’ত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। পরে ৩০ নভেম্বর তাকে আদালতে তোলা হয়। একই মা’মলায় মেহেদীসহ আরও ১৬ জনকে আদালতে নেয়া হয়।

ইরানের আইন মোতাবেক গুপ্তচরবৃত্তি বা সংবেদনশীল মামলায় নিজস্ব আইনজীবী বেছে নেয়ার কোনো নিয়ম নেই। আদালতই তাদের পক্ষে লড়ার জন্য একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেন।

সাংবাদিক ক অভিযুক্তদের পরিবারের লোকদেরকেও কোর্টের ভিতর ঢুকতে দেয়া হয় না। তারা শুধু বিচারকদের প্রকাশিত ভিডিওর মাধ্যমে ভিতরের ঘটনা জানতে পারে।

এমন একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারামির বিপক্ষে সবাই অভিযোগের তীর ছুঁড়ছেন আর তার পক্ষের আইনজীবীরা নির্বাক বসে আছেন। মেহেদীকে এসময় হতাশ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

৫ ডিসেম্বর কারামির ফাঁ’সির রায় দেয়া হয়। ওই হ’ত্যা মামলায় আরও ৪ জনকে ফাঁ’সির আদেশ দেয়া হয়।

সাধারণত আসামির পরিবারের সদস্যদেরকে গণমাধ্যমে কথা বলতে দেয়া হয় না। কিন্তু মেহেদীর বাবা মাশাল্লাহ কারামি ইতিমাদ পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, যেদিন মেহেদীকে মৃ’ত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয় সেদিন সে আমাকে ফোন দিয়ে কেদেছিল। কাঁদতে কাঁদতে সে বলেছিল, ‘বাবা তারা আমাকে মৃ’ত্যুদণ্ড দিয়েছে। মাকে কিছুই বলো না।’

তিনি আরও বলেন, আমি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনোভাবেই পারিনি। পরে মেহেদীর পরিবার ইরানের শ্রেষ্ঠ মানবাধিকার আইনজীবী মোহাম্মদ আঘাসির কাছে ছেলেকে মুক্ত করার জন্য যান।

এ বিষয়ে আঘাসি বলেন, মেহেদী আমাকে কারাগারের ভেতর থেকে অনেকবার অনুরোধ করেছে তাকে রক্ষা করার জন্য। তার পরিবারের লোকেরাও আমার কাছে এসেছিল।

পরে আঘাসি স্থানীয় আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আপিল করেছেন। কিন্তু প্রতিটা জায়গায় তার আবেদন নাকচ করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *