ন্যূনতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা করার দাবি গার্মেন্টস শ্রমিকদের

বর্তমানে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণ জীবনযাত্রার মান একেবারেই নিম্নমুখী। জীবনমান উন্নয়নে ন্যূনতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা করে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

জীবনমান উন্নয়নে ন্যূনতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা করে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, বর্তমানে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণে তাদের জীবনযাত্রার মান একেবারেই নিম্নমুখী।

তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প খাতের শ্রমিকদের মজুরি সর্বশেষ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ বছর আগে। এই পাঁচ বছরে নিত্যপণ্য, বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি।

সিপিডির তথ্য তুলে ধরে নাজমা আক্তার বলেন, ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বসবাসরত একজন ব্যক্তির মাসিক খাবার খরচ ৫ হাজার ৩৩৯ টাকা। চারজনের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই খরচ ২১ হাজার ৩৫৮ টাকা। যদি কোনো পরিবার পুরো মাসে একবারও মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও মুরগি না খায় তাহলেও খরচ ৮ হাজার ১০৬ টাকা। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত গাড়িভাড়া বাড়ছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মজুরি কম হওয়ায় শ্রমিকরা তাদের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খেতে পারছে না। ফলে অপুষ্টিহীনতায় ভুগে বয়স হওয়ার আগেই কাজ ছেড়ে দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের।

শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ন্যূনতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা করে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, বাসস্থান সংস্থান, রেশনিং ব্যবস্থা ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *