আমিরাতে ভিসা টিকেটের দাম দেবে নিয়োগদাতা !

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গমনেচ্ছু কর্মীর কাছ থেকে সেখানকার নিয়োগদাতারা ভিসা, টিকেট ও মেডিকেল টেস্টের ব্যয় বাবদ কোনো অর্থ নিতে পারবেন না। নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যয়ের পুরোটাই নিয়োগদাতা বহন করবেন। কর্মীর কাছ থেকে এসব খরচ দাবি করা যাবে না। আমিরাতের শ্রম আইনে এ কথা বলা হয়েছে।

দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ, আজমান, ফুজাইরাহ, রাস আল-খাইমাহসহ আমিরাতের যে কোনো রাজ্যে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আমিরাতের শীর্ষ দৈনিক খালিজ টাইমসে পাঠকদের প্রশ্নের জবাবে দুবাইয়ের নেতৃস্থানীয় আইনজীবী আশীষ মেহতা এ কথা জানিয়েছেন।

দুবাইসহ বিভিন্ন শহরে নিয়োগের কথা বলে বিদেশ গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে ভিসার খরচ বা মূল্য বাবদ চড়া অঙ্কের অর্থ আদায় করেন মধ্যস্থতাকারীরা। আমিরাতে নিয়োগদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ অর্থ নিচ্ছে বলে বিদেশ গমনেচ্ছুদের জানানো হয়। কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত সব খরচ নিয়োগদাতা বহন করবে কিনা, জানতে চেয়েছিলেন এক পাঠক।

আরেক পাঠক লেখেন, আমি দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরির প্রস্তাব পেয়েছি। রেস্তোরাঁ মালিক আমার কাছে ভিসার খরচ চাইছেন। নিয়োগদাতা নাকি নিয়োগপ্রার্থী ভিসার খরচ দেবে, অনুগ্রহ করে জানান।

জবাবে আইনজীবী জানান, আমিরাতে যে কোনো নিয়োগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল নিয়োগ আইনের অধীনে হয়ে থাকে। ২০২১ সালের ৩৩ নম্বর ফেডারেল ডিক্রি আইনে এমপ্লয়মেন্ট রিলেশনস বা নিয়োগ-সম্পর্ক সংক্রান্ত বিধিবিধান বর্ণিত হয়েছে। ‘এমপ্লয়মেন্ট ল’ নামে আইনটি সমধিক পরিচিত।

এমপ্লয়মেন্ট ল’র ৬ ধারার ৪ অনুচ্ছেদে কর্মীর কাছ থেকে নিয়োগ বাবদ কোনো ফি বা খরচ আদায় করতে নিয়োগদাতাকে বারণ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভিসা সংক্রান্ত খরচের অর্থ আদায় করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমপ্লয়মেন্ট ল’র ৪ অনুচ্ছেদের ভাষ্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘নিয়োগদাতা নিয়োগকৃতের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়োগের খরচ দাবি বা আদায় করতে পারবে না।’

উপরে বর্ণিত এমপ্লয়মেন্ট ল জারির পর এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আইনের শর্ত মোতাবেক কর্মীর এন্ট্রি ভিসা ইস্যু, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণ, আসার পর মেডিকেল টেস্ট, রেসিডেন্সি পারমিট ইস্যু ও অন্যান্য প্রক্রিয়াকরণের ব্যয় বহন করবে নিয়োগদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। কর্মীদের কাছ থেকে এসব ব্যয়ের অংশবিশেষও দাবি করা যাবে না।

কোনো নিয়োগদাতা এমন অর্থ দাবি করলে কর্মী তাকে এমপ্লয়মেন্ট ল’র কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন অথবা প্রয়োজনে আইনজীবীর সাহায্য নিতে এবং আমিরাতের শ্রম মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *